
সনাতন ধর্মাবলম্বীদের সর্ববৃহৎ ধর্মীয় উৎসব শারদীয় দুর্গাপূজাকে ঘিরে চট্টগ্রামের বাঁশখালী উপজেলার বিভিন্ন পূজামণ্ডপে চলছে প্রতিমা তৈরির ব্যস্ততা। আগামী ২১ সেপ্টেম্বর (রোববার) মহালয়ার মাধ্যমে দেবী দুর্গাকে আহ্বান জানানো হবে। আর ২৮ সেপ্টেম্বর (রবিবার) ষষ্ঠীর মধ্য দিয়ে শুরু হবে পূজার আনুষ্ঠানিকতা। এ উপলক্ষে প্রতিমাশিল্পীরা দিন-রাত পরিশ্রম করে গড়ে তুলছেন দেবী দুর্গা, সরস্বতী, লক্ষ্মী, কার্তিক, গণেশ ও মহিষাসুরের প্রতিমা। মাটি, খড়, বাঁশ ও রঙের সমন্বয়ে তৈরি করা হচ্ছে এসব প্রতিমা।
সরেজমিনে সাধনপুর, পূর্ব গুনাগরী ও জলদী পৌরসভার মহাজন পাড়ার সার্বজনীন মন্দির, বিভিন্ন স্থানে দেখা গেছে প্রতিমাশিল্পীদের কর্মব্যস্ততা।
মৃৎশিল্পী সুমন মহন্ত বলেন, প্রতিমা তৈরির কাজ আমরা পূজার অন্তত দুই মাস আগে শুরু করি। বর্তমানে মাটি, বাঁশ ও রঙসহ সব উপকরণের দাম বেড়ে গেছে। আগে একটি দুর্গা প্রতিমা তৈরিতে ৩০
থেকে ৪০ হাজার টাকা খরচ হতো, এখন খরচ দাঁড়িয়েছে ৬০ থেকে ৮০ হাজার টাকা। আবার বড় আকারের প্রতিমা তৈরিতে ১ লাখ টাকারও বেশি ব্যয় হচ্ছে।
বাঁশখালী পূজা উদযাপন পরিষদের যুগ্ম আহবায়ক জন্টু কুমার দাশ বলেন, প্রতি বছরের মতো এবারও উৎসবমুখর পরিবেশে শারদীয় দুর্গোৎসব পালনের প্রস্তুতি চলছে। বাঁশখালী উপজেলার নির্বাহী কর্মকর্তা মোহাম্মদ জামশেদুল আলম বিভিন্ন ইউনিয়নের প্রতীমা তৈরির খারখানা পরিদর্শন করেন, পরিদর্শন শেষে বলেন,
অধিকাংশ প্রতিমা তৈরির কারখানায় অনিরাপদ জায়গাতে প্রতিমা তৈরি ও সংরক্ষণ করে রাখতে দেখা গেছে। কারখানা গুলিতে এখনও পর্যন্ত কোনো ধরনের সিসি ক্যামেরা স্থাপন করা হয়নি। এমনকি ওই কারখানা গুলোতে রাতে পাহারা দেয়ার কোনো ধরনের পাহারাদারও নিযুক্ত করেনি। সাধনপুরস্থ প্রতিমা তৈরি কারখানা মালিক পিন্টু দাশের এমন অবহেলা ও অসতর্কতার বিষয়টি দেখে তাকে আবারও সতর্ক করেন নির্বাহী কর্মকর্তা জামশেদুল আলম।
আইনশৃঙ্খলা পরিস্থিতি নিয়ে বাঁশখালী থানার ভারপ্রাপ্ত কর্মকর্তা (ওসি) সাইফুল ইসলাম বলেন, উপজেলায় ৮৮ টি মন্দিরে সার্বজনীন শারদীয় দুর্গাপূজা অনুষ্ঠিত হবে। অধিকাংশ মন্দিরেই প্রতিমা তৈরির কাজ শেষ পর্যায়ে রয়েছে। প্রতিটি ইউনিয়নে আমাদের কর্মকর্তারা দায়িত্বে আছেন এবং নিয়মিত পূজা কমিটির সঙ্গে যোগাযোগ রাখছেন। পূজা নির্বিঘ্নে সম্পন্ন করতে সব ধরনের নিরাপত্তা ব্যবস্থা গ্রহণ করা হয়েছে।