সংবাদ শিরোনাম
রিয়াদে গাউছিয়া কমিটির উদ্যোগে জশনে ঈদে মিলাদুন্নবী সাঃ আজিমুশশান মিলাদ মাহফিল অনুষ্ঠিত; লন্ডনে ‘চট্টগ্রাম উৎসব ২০২৬’ উদযাপনের ঘোষণা: দল-মতের ঊর্ধ্বে চট্টগ্রামবাসীর ঐক্যের আহ্বান বাংলাদেশের পাসপোর্ট সেবা ও নাগরিকদের ব্যক্তিগত তথ্য বিদেশী প্রতিষ্ঠানের হাতে হস্তান্তর বন্ধের দাবিতে রিয়াদ প্রবাসী বাংলাদেশী সচেতন মহলের সংবাদ সম্মেলনে; জাতীয় প্রেসক্লাবে জাতীয় সাংবাদিক সংস্থার নির্বাহী পরিষদের বর্ধিত সভায় সাংবাদিকদের পেশাদারিত্ব, প্রশিক্ষণ ও গুণগত মান বৃদ্ধির পাশাপাশি অধিকার আদায়ে ঐক্যবদ্ধ হওয়ার আহ্বান বেতন বৃদ্ধি প্রয়োজন, তবে তার সঙ্গে চাই ন্যায়সংগত কর্মমূল্যায়ন—মোঃ আসাদ উল্লাহ, বিএসসি গুরুতর অসুস্থ হয়ে রাজশাহী মেডিকেল কলেজ হাসপাতালে ভর্তি ইয়াকুব ভাই, সবার কাছে দোয়া চেয়েছেন রিয়াদে আঞ্জুমানে খোদ্দামুল মোসলেমিন রিয়াদ কেন্দ্রীয় পরিষদের উদ্যোগে ঈদে মিলাদুন্নবী সাল্লাল্লাহু আলাইহি ওয়া সাল্লাম উদযাপন; যুক্তরাজ্যের ইলফোর্ডে গ্রেটার চট্টগ্রাম অ্যাসোসিয়েশন ইউকে’র মিলনমেলা ২০২৬ অনুষ্ঠিত সৌদিআরব বাংলাদেশ দূতাবাসে প্রবাসীদের সমসাময়িক বিষয় নিয়ে বাংলাদেশ প্রবাসী সাংবাদিক ফোরামের নেতৃবৃন্দ সহ বিভিন্ন গনমাধ্যম কর্মীদের সাথে রাষ্ট্রদূতের মতবিনিময়- গোদাগাড়ীতে ১ কেজি গাঁজাসহ মাদক কারবারি গ্রেপ্তার
মঙ্গলবার, ১৫ সেপ্টেম্বর ২০২৬, ০১:৫৭ অপরাহ্ন

সীতাকুণ্ডে অপরাধীর পরিবর্তে ভুক্তভোগী গ্রেপ্তার: পুলিশি ভূমিকার স্বচ্ছতা নিয়ে জনমনে প্রশ্ন

আনিছুর রহমান / ৭৩ বার দেখা হয়েছে
আপডেট: বুধবার, ২৪ জুন, ২০২৬

আনিছুর রহমান
​নিজস্ব প্রতিবেদক,

সীতাকুণ্ড: চট্টগ্রামের সীতাকুণ্ডে ব্যবসায়ী ও বাংলাদেশ নাগরিক সমাজের সদস্য মো. ইয়াকুব আলী (৩৫)-এর বাসভবনে দুর্ধর্ষ হামলা, লুটপাট পরবর্তীতে ভুক্তভোগীকেই পুলিশের গ্রেপ্তারের ঘটনায় এলাকায় তীব্র ক্ষোভ ও রহস্যের সৃষ্টি হয়েছে। ইয়াকুব আলী সীতাকুণ্ড উপজেলার ৮ নম্বর সোনাইছড়ি ইউনিয়নের ৫ নম্বর ওয়ার্ডের জঙ্গল সোনাইছড়ি এলাকার বাসিন্দা। তাঁর পিতার নাম জহির আলম। পরিবারের মুখে দুবেলা দুমুঠো অন্ন তুলে দেওয়ার জন্য যিনি সারাদিন কঠোর পরিশ্রম করেন, সেই ব্যবসায়ী ইয়াকুব আলীর বাসভবনে এমন তাণ্ডবের ঘটনায় এলাকা জুড়ে এক আতঙ্কের পরিবেশ সৃষ্টি হয়েছে।

মঙ্গলবার ২৩ জুন ২০২৬ ইং তারিখ দিবাগত রাত ১১টার দিকে একদল চিহ্নিত চোর ও লুটপাটকারী ইয়াকুব আলীর নিজ বাসভবন (‘ইয়াকুব বিল্ডিং’) অতর্কিত হামলা চালায়। অভিযোগ রয়েছে, অপরাধীরা বাড়িতে প্রবেশ করে ব্যাপক ভাঙচুর, অর্থ-সম্পদ লুটপাট এবং পরিবারের নারী-পুরুষসহ সকল সদস্যের ওপর শারীরিক নির্যাতন চালায়।

ভুক্তভোগী পরিবারের সদস্যরা জানান, হামলার সময় স্ত্রী,ছোট ছোট পুত্র সন্তানদের
জীবননাশের আশঙ্কায় ইয়াকুব আলী তাৎক্ষণিকভাবে সীতাকুণ্ড থানা পুলিশকে ফোন করে সহায়তা প্রার্থনা করেন। তাৎক্ষণিক প্রতিক্রিয়ায় ওসি জানান যে, ঘটনাস্থলে পুলিশ পাঠানো হয়েছে। কিন্তু পুলিশ ঘটনাস্থলে পৌঁছালেও হামলাকারীদের বাধা দেওয়ার পরিবর্তে বিস্ময়করভাবে ভুক্তভোগী ব্যবসায়ী ইয়াকুব আলীকে গ্রেপ্তার করে থানায় নিয়ে যায়। যেখানে একজন নাগরিক তার জানমালের নিরাপত্তার জন্য আইন-শৃঙ্খলা রক্ষাকারী বাহিনীর কাছে সহায়তা চেয়েছেন, সেখানে তাকেই গ্রেপ্তার করায় পুলিশের পেশাদারিত্ব নিয়ে জনমনে গভীর প্রশ্ন দেখা দিয়েছে।

অনুসন্ধানে জানা গেছে, ইয়াকুব আলী একজন সচেতন নাগরিক ও সাবেক ছাত্রদল কর্মী। অতীতে ছাত্রদল করার অপরাধে তৎকালীন আওয়ামী লীগ সরকারের আমলে তিনি একাধিক রাজনৈতিক মামলার শিকার হয়েছিলেন। গত ত্রয়োদশ জাতীয় সংসদ নির্বাচনের আগে চট্টগ্রাম মহানগর কোতোয়ালি, বাকলিয়া ও চকবাজার থানা সংসদীয় আসনের বর্তমান সংসদ সদস্য আলহাজ্ব আবু সুফিয়ানের সঙ্গে তিনি দেশবরেণ্য নেত্রী মরহুমা বেগম খালেদা জিয়ার স্মরণসভায় সক্রিয় অংশগ্রহণ করেছিলেন। স্থানীয়দের সন্দেহ, তার এই রাজনৈতিক পরিচিতি এবং বিগত দিনের রাজনৈতিক সক্রিয়তার কারণে পরিকল্পিতভাবে তাকে প্রতিহিংসার শিকার করা হচ্ছে কি না।

ভুক্তভোগীর পরিবার জানিয়েছে, যারা ইয়াকুব আলীর বাড়িতে হামলা করেছে, তারা একই চক্রের সদস্য এবং ইতিপূর্বেও তাঁর বাড়িতে অন্তত তিন দফায় ডাকাতির ঘটনা ঘটিয়েছে। ওই ঘটনাগুলোর ভিডিও ফুটেজও ভুক্তভোগী এবং সংবাদ কর্মীদের কাছে সংরক্ষিত রয়েছে, যা ভুক্তভোগী পরিবার বারবার পুলিশকে অবহিত করেছিল। এলাকাবাসীর অভিযোগ, বর্তমান অস্থিতিশীল পরিস্থিতির সুযোগ নিয়ে একটি মহল পরিকল্পিতভাবে এই হামলা চালিয়েছে এবং পুলিশের কর্মকাণ্ডের ফলে অপরাধীরা এখন ও ধরাছোঁয়ার বাইরে।

ঘটনার সত্যতা যাচাই এবং ইয়াকুব আলীকে গ্রেপ্তারের সুনির্দিষ্ট আইনি কারণ জানার জন্য সীতাকুণ্ড থানার ভারপ্রাপ্ত কর্মকর্তার (ওসি) সরকারি হোয়াটসঅ্যাপ নম্বরে প্রতিবেদকের পক্ষ থেকে বিস্তারিত বার্তা পাঠানো হয়েছিল।
কিন্তু দীর্ঘ সময় পেরিয়ে গেলেও ওসি সাহেব কোনো উত্তর দেননি এবং এ বিষয়ে কোনো আনুষ্ঠানিক বক্তব্য প্রদান করেননি। পাশাপাশি, এ বিষয়ে সরাসরি কথা বলার জন্য ওসি সাহেবের হোয়াটসঅ্যাপ নাম্বারে কল করেও কোনো সংযোগ পাওয়া যায়নি। দায়িত্বশীল কর্মকর্তার এহেন নীরবতা ও অসহযোগিতায় ঘটনাটি আরও রহস্যময় হয়ে উঠছে।

স্থানীয়রা সচেতন মহল জানান, ভুক্তভোগী পরিবারের উপর রাত ১১টা থেকে হামলা আরম্ভ করা হয়। ১২টা পেরিয়ে গেলেও হামলা অব্যাহত ছিল। স্থানীয় সচেতন মহল দ্রুত এই ঘটনার সুষ্ঠু ও নিরপেক্ষ তদন্ত এবং ইয়াকুব আলীর নিঃশর্ত মুক্তি দাবি করেছেন। তারা মনে করছেন, প্রশাসন যদি প্রকৃত অপরাধীদের আইনের আওতায় না আনে, তবে এলাকায় আইন-শৃঙ্খলার চরম অবনতি ঘটবে।


আপনার মতামত লিখুন :

Leave a Reply

Your email address will not be published. Required fields are marked *

এই বিভাগের আরও খবর

Recent Posts

Recent Comments

No comments to show.

Categories