আরমান হোসেন ডলার (বিশেষ প্রতিনিধি), বগুড়া:
বগুড়ার নন্দীগ্রাম উপজেলায় একটি এনজিও প্রকল্পে চাকরি দেওয়ার নামে ভয়াবহ অনিয়ম ও প্রতারণার অভিযোগ উঠেছে। অভিযোগ অনুযায়ী, আওয়ামী লীগ নেতা ও চাহিদা এনজিওর প্রকল্প পরিচালক মোঃ আনিছুর রহমান চাকরি জামানতের নামে প্রায় ৭০ জন শিক্ষক এবং ৫ জন সুপারভাইজারের কাছ থেকে বিপুল পরিমাণ অর্থ আত্মসাৎ করে বর্তমানে আত্মগোপনে রয়েছেন।
ভুক্তভোগীদের দাবি, নন্দীগ্রামে চাহিদা এনজিও কর্তৃক পরিচালিত উপানুষ্ঠানিক শিক্ষা ব্যুরো – আউট অব চিল্ড্রেন এডুকেশন প্রোগ্রাম (PDP 2.5) প্রকল্পে চাকরি দেওয়ার আশ্বাস দিয়ে এই অর্থ সংগ্রহ করা হয়েছিল।
ভুক্তভোগীরা জানায়, ফেরতযোগ্য চাকরি জামানতের নামে প্রায় ৭০ জন শিক্ষকের কাছ থেকে জনপ্রতি ৩০ হাজার টাকা,৫ জন সুপারভাইজারের কাছ থেকে জনপ্রতি ৭০ হাজার টাকা আদায় করা হয়েছিল।
কিন্তু দীর্ঘদিন পার হলেও চাকরি দেওয়া হয়নি এবং অর্থ ফেরতও দেওয়া হয়নি। পরে অভিযুক্ত মোঃ আনিছুর রহমান আত্মগোপনে চলে যান।
অভিযুক্তের পরিচয়
নাম: মোঃ আনিছুর রহমান।
পিতা: মৃত আব্দুল আজিজ।
মাতা: মৃত লাইলী বেগম।
ঠিকানা: বড়বাড়ি, বিলকুকরী, বীরকদমতলী, ধনবাড়ী, টাঙ্গাইল।
পদবি: প্রকল্প পরিচালক (ইডি), চাহিদা এনজিও, নন্দীগ্রাম উপজেলা শাখা।
প্রতারণার শিকার শিক্ষক ও সুপারভাইজাররা বর্তমানে চরম আর্থিক সংকট ও অনিশ্চয়তার মধ্যে মানবেতর জীবনযাপন করছেন। বিষয়টি বাংলাদেশ জাতীয় মানবাধিকার অ্যাসোসিয়েশন, বগুড়া জেলা কমিটিকে লিখিতভাবে জানানো হলে সংগঠনের সভাপতি চিকিৎসা প্রযুক্তিবিদ মোঃ আরমান হোসেন ডলার একটি সাত সদস্য বিশিষ্ট তদন্ত কমিটি গঠন করেন।
তদন্ত কমিটি ঘটনার সার্বিক অনুসন্ধান শেষে অভিযোগের সত্যতা পাওয়ায় ভুক্তভোগীদের আইনগত ব্যবস্থা গ্রহণের পরামর্শ দেয়। পরে, ভুক্তভোগীদের সঙ্গে নিয়ে সভাপতি মোঃ আরমান হোসেন ডলার নন্দীগ্রাম থানায় লিখিত অভিযোগ দায়ের করেন।
ভুক্তভোগী শিক্ষকদের পক্ষে শিক্ষিকা মোছাঃ আদরী বলেন, “আমরা চাকরির আশায় আমাদের সর্বস্ব দিয়ে টাকা দিয়েছি। আজ আমরা নিঃস্ব। ন্যায়বিচার ছাড়া আমাদের আর কোনো পথ নেই।”
ভুক্তভোগী সুপারভাইজারদের পক্ষে ফেরদৌস বলেন, “আমাদের সঙ্গে চরম প্রতারণা করা হয়েছে। প্রশাসনের কাছে দ্রুত বিচার এবং অর্থ উদ্ধারের জোর দাবি জানাচ্ছি।”
বাংলাদেশ জাতীয় মানবাধিকার অ্যাসোসিয়েশন, বগুড়া জেলা কমিটির সভাপতি চিকিৎসা প্রযুক্তিবিদ মোঃ আরমান হোসেন ডলার বলেন,“প্রতারণার শিকার শিক্ষক ও সুপারভাইজারদের ন্যায্য অধিকার আদায়ে আমরা আইনগতভাবে সর্বোচ্চ পদক্ষেপ গ্রহণ করবো। ন্যায়বিচার নিশ্চিত না হওয়া পর্যন্ত সংগঠন তাদের পাশে থাকবে, ইনশাআল্লাহ।”
ভুক্তভোগীরা দ্রুত অভিযুক্তকে গ্রেপ্তার, আত্মসাৎকৃত অর্থ উদ্ধার এবং দৃষ্টান্তমূলক শাস্তির দাবি জানিয়েছেন।
সংবাদটি প্রকাশের মাধ্যমে ন্যায়বিচার নিশ্চিত হোক এবং প্রতারণার শিকার শিক্ষক ও সুপারভাইজারদের পাশে রাষ্ট্র দাঁড়াক—এটাই সকলের প্রত্যাশা।