ইপিজেড থানাধীন ৩৯ নং দক্ষিণ হালিশহর ওয়ার্ডের উদ্যোগে চট্টগ্রাম-১১ আসনে জামায়াতে ইসলামীর মনোনীত সংসদ সদস্য প্রার্থী জননেতা শফিউল আলমের সমর্থনে শুক্রবার সন্ধ্যায় অনুষ্ঠিত গণমিছিল ও পথসভা স্থানীয় রাজনৈতিক প্রেক্ষাপটে তাৎপর্যপূর্ণ ও বলিষ্ঠ বার্তা বহন করলো। নারকেলতলা মোড় থেকে সন্ধ্যা ৫টা ৪০ মিনিটে যাত্রা শুরু করা মিছিলটি সংগঠিতভাবে ফ্রি পোর্ট ইপিজেড চত্বরে গিয়ে শেষ হয়; অংশগ্রহণের সংখ্যা ও উচ্ছ্বাস স্পষ্ট করে যে—ক্ষেত্রটি এখন খুলে পড়ছে জনসমর্থনের পরীক্ষায়।
৩৯ নং ওয়ার্ড জামায়াতে ইসলামী আমীর ওসমান গনির নেতৃত্বে পরিচালিত এই কর্মসূচিতে প্রধান অতিথি জননেতা শফিউল আলম দৃঢ় কণ্ঠে ঘোষণা করেন, “দাড়িপাল্লার পক্ষে সারা দেশে গণজোয়ার সৃষ্টি হয়েছে। আমাদের স্লোগান পুরো এলাকা প্রকম্পিত করেছে। ইনশাআল্লাহ, আসন্ন নির্বাচনে দাঁড়িপাল্লার পক্ষে নীরব বিপ্লব ঘটবেই।” তাঁর বক্তব্যে ছিল আত্মবিশ্বাসের তীব্রতা—যা স্থানীয় নেতাকর্মীদের ভেতর রাজনৈতিক সংহতি ও লড়াকু মনোভাব জাগিয়েছে।
কিন্তু এই রাজনৈতিক আত্মবিশ্বাসের সঙ্গে আসে অভিযোগের ছায়াও। শফিউল আলম অভিযুক্ত করেন যে, বিভিন্ন স্থানে তাদের প্রার্থীদের ওপর হামলা করা হচ্ছে এবং নারী কর্মীদের ওপর নিপীড়নের ঘটনা ঘটছে। এসব অভিযোগ তিনি কড়া গলায় প্রত্যাখ্যান করে বলেন, “এই ধরনের সহিংসতা ও ভয়ভীতি আর সহ্য করা হবে না; দায়ীদের বিরুদ্ধে জনগণই কঠোর ব্যবস্থা নেবে।” এই হুঁশিয়ারি স্থানীয় পরিস্থিতিকে আরও উত্তেজনাপূর্ণ করে তুলেছে এবং প্রতিপক্ষকে সতর্ক করছে।
অনুষ্ঠানে উপস্থিত ছিলেন আসন কমিটি চট্টগ্রাম-১১ এর সদস্য সচিব আবদুল গফুর ও চট্টগ্রাম মহানগরীর মজলিসে শূরা সদস্য ও ইপিজেড থানা আমীর আবুল মোকাররম। ৩৯ নং ওয়ার্ডের কাউন্সিলর মনোনীত প্রার্থী মোঃ সাহেদ, মাওলানা মোজাম্মেল হক, আবদুর রহিম বিশ্বাস, মামুন খান, মোঃ ফখরুল ইসলাম ও মজিবুর হক বকুলসহ নানা স্তরের নেতারা বক্তব্যে সংগঠনের ঐক্য, মাঠে উপস্থিতি ও ভোটে সক্রিয় অংশগ্রহণের আহ্বান জানায়। উপস্থিত জনসাধারণের স্লোগান ও উল্লাস ছিল চোখে পড়ার মতো; তবে সমাবেশ শান্তিপূর্ণভাবে শেষ হওয়া স্থানীয় প্রশাসন ও আইনশৃঙ্খলা রক্ষাকারী সংস্থার মনোযোগও আকর্ষণ করেছে।
চট্টগ্রাম-১১ আসনটি ভূ-রাজনৈতিক দিক থেকে গুরুত্বপূর্ণ—বন্দর, শিল্পাঞ্চল ও সড়কসংযোগ এখানে রাজনৈতিক স্বার্থ ও জনসাধ্যের সংঘর্ষকে তীব্র করে। তাই মাঠে এমন মাত্রার সমাবেশ শুধু তার বিরুদ্ধে নয়, সমগ্র এলাকার অর্থনৈতিক ও সামাজিক আনাচে প্রভাব ফেলতে পারে। এই প্রেক্ষাপটে পথসভায় উত্থাপিত হামলা ও নারী নিপীড়নের অভিযোগগুলো যদি প্রমাণিত হয়, তাহলে দ্রুত ও নিরপেক্ষ তদন্তের মধ্য দিয়ে দায়ীদের বিরুদ্ধে আইনগত ব্যবস্থা গ্রহণ অপরিহার্য। নাহলে স্থানীয় উত্তেজনা দীর্ঘ মেয়াদী সংঘাতে রূপ নেওয়ার আশঙ্কা আছে।
প্রশাসন ও নির্বাচন কমিশনকে এখনই সতর্ক হতে হবে—ভোটকে ঘিরে নিরাপত্তা নিশ্চিত করা,
নিরপেক্ষ পরিবেশ বজায় রাখা এবং দুর্বল জনগোষ্ঠীর নিরাপত্তা রক্ষা করা তাদের দায়িত্ব। স্থানীয় গণমাধ্যমেরও দায়িত্ব বাড়ছে: তথ্যভিত্তিক, নিরপেক্ষ রিপোর্টিং করে সঠিক তথ্য জনসম্মুখে আনা প্রয়োজন। নেতৃবৃন্দেরও অনুরোধ-অভিযোগ থাকলে তা প্রমাণসহ সংশ্লিষ্ট কর্তৃপক্ষের নিকট উপস্থাপন করুন; আবেগকে ভোলার আগেই যুক্তি ও প্রমাণ দিয়ে চলুন।
সংক্ষেপে, ২৮ নভেম্বরের গণমিছিল স্থানীয় রাজনীতির শক্তি-প্রতিযোগিতা ও সংগঠিত প্রতিক্রিয়ার পরিসর উন্মোচন করেছে। মাঠে যে উত্সাহ দেখানো হলো, তা ভোট দিনের আগে প্রতিটি পক্ষকে জোরালোভাবে পরীক্ষা করবে। নাগরিকরা সতর্ক থাকুন; শান্তিপূর্ণ ভোটবাতাবরণ নিশ্চিত করা আমাদের সকলের সংগ্রাম। আইনশৃঙ্খলা রক্ষাই সর্বোচ্চ অগ্রাধিকার। নিরপেক্ষ তদন্ত দাবি।