সময়ের সাহসী কণ্ঠস্বর, অন্যায়ের বিরুদ্ধে আপসহীন অবস্থান নেওয়া এক সংগ্রামী মানুষ শরীফ ওসমান হাদির মৃত্যুতে গভীর শোক প্রকাশ করেছেন সাংবাদিক নির্যাতন প্রতিরোধ সেল বাংলাদেশের পরিচালক ও সাংবাদিক নেতা শিব্বির আহমেদ ওসমান। একই সঙ্গে তিনি
শোককে কেন্দ্র করে দেশের বিভিন্ন স্থানে সংঘটিত ভাঙচুর,অরাজকতা ও সহিংসতার বিরুদ্ধে কঠোর ভাষায় নিন্দা ও প্রতিবাদ জানিয়েছেন।
এক শোকবার্তায় শিব্বির আহমেদ ওসমান বলেন,“ওসমান হাদির মৃত্যু কোনো সাধারণ বিদায় নয়। এটি একটি প্রতিবাদী চেতনার স্তব্ধ হয়ে যাওয়া, একটি স্বপ্নের আকস্মিক ছেদ। তার অনুপস্থিতিতে সমাজ আজ গভীর শূন্যতার মুখোমুখি—যে শূন্যতা সহজে পূরণ হবার নয়।”
তিনি বলেন, ওসমান হাদি ছিলেন অন্যায়ের বিরুদ্ধে নির্ভীক ও উচ্চকণ্ঠ এক যোদ্ধা। ন্যায়, সত্য ও মানবিক মর্যাদার প্রশ্নে তিনি কখনো আপস করেননি। সামাজিক বৈষম্য,নিপীড়ন ও অবিচারের বিরুদ্ধে তার অবস্থান ছিল স্পষ্ট, দৃঢ় ও আপসহীন। জীবনের শেষ মুহূর্ত পর্যন্ত তিনি তার বিশ্বাস থেকে বিচ্যুত হননি—এটাই তাকে আলাদা করে তোলে।
বিবৃতিতে শিব্বির আহমেদ ওসমান আরও বলেন,“ওসমান হাদি একজন ব্যক্তি ছিলেন না—তিনি ছিলেন একটি চিন্তার প্রতিচ্ছবি। নিপীড়িত মানুষের না-বলা কষ্ট, জমে থাকা ক্ষোভ ও দীর্ঘদিনের বঞ্চনার ভাষা হয়ে উঠেছিল তার কণ্ঠ। আজ সেই কণ্ঠ স্তব্ধ—এ ক্ষতি কেবল পরিবারের নয়, গোটা সমাজের।”
তিনি বলেন, মরহুম ওসমান হাদি সব শ্রেণি-পেশার মানুষকে সঙ্গে নিয়ে বিভাজনের রাজনীতি অতিক্রম করে একটি শান্তিপূর্ণ, ন্যায়ভিত্তিক ও মানবিক সমাজ গঠনের স্বপ্ন দেখতেন।সহনশীলতা, সংলাপ ও ঐক্যের মধ্য দিয়েই সমাজ এগিয়ে যাবে—এই বিশ্বাস ছিল তার রাজনৈতিক ও সামাজিক দর্শনের মূল ভিত্তি।
শোকবার্তায় শিব্বির আহমেদ ওসমান মরহুমের বিদেহী আত্মার মাগফিরাত কামনা করেন এবং শোকসন্তপ্ত পরিবার, স্বজন ও সহকর্মীদের প্রতি গভীর সমবেদনা জানান। একই সঙ্গে তিনি ওসমান হাদির মৃত্যুর পেছনের প্রকৃত কারণ উদঘাটন এবং জড়িত সকলকে দ্রুত আইনের আওতায় এনে দৃষ্টান্তমূলক শাস্তির দাবি জানান।
শোককে কেন্দ্র করে সংঘটিত সহিংস ঘটনার বিষয়ে তিনি অত্যন্ত কঠোর ভাষায় বলেন,“শোক কিংবা প্রতিবাদের নামে ভাঙচুর,অগ্নিসংযোগ ও সহিংসতা কোনোভাবেই গ্রহণযোগ্য নয়। এসব কর্মকাণ্ড ন্যায়বিচারের দাবিকে দুর্বল করে এবং মানবিক মূল্যবোধকে পদদলিত করে।”তিনি বলেন, সহিংসতা কখনোই কোনো আদর্শের বাহন হতে পারে না। বরং তা সমাজে ভীতি, অস্থিরতা ও অনিশ্চয়তা তৈরি করে—যার পরিণতি শেষ পর্যন্ত সাধারণ মানুষের জন্যই ভয়াবহ হয়।
বিবৃতির শেষাংশে শিব্বির আহমেদ ওসমান বলেন,“শোককে সংযমে রূপান্তর করতে হবে, আবেগকে দিতে হবে সচেতনতার দিশা। প্রতিবাদ হতে হবে গঠনমূলক, আইনসম্মত ও মানবিক। তবেই ওসমান হাদির স্বপ্নের ন্যায়ভিত্তিক সমাজ গঠনের পথ প্রশস্ত হবে।”