আলো মাদকাসক্ত পুনর্বাসন কেন্দ্র শুধু সেবামূলক প্রতিষ্ঠান নয়, এটি আমাদের পরিবার: মঈনুল হক মনা
নিজস্ব প্রতিবেদক
/ ৪২
বার দেখা হয়েছে
আপডেট:
রবিবার, ১৬ নভেম্বর, ২০২৫
শেয়ার করুন
নিজস্ব প্রতিবেদকঃ
চট্টগ্রাম শহরে মাদকের ভয়াবহ বিস্তার আজ একটি কঠিন কেন্দ্রের বাস্তবতা। জনসংখ্যার তুলনায় নগরে মাদক পুনর্বাসন কেন্দ্রের সংখ্যা অত্যন্ত কম-যেখানে লাইসেন্সপ্রাপ্ত বেড সংখ্যা মাত্র ৩৫০৪০০। অথচ মাদকাসক্ত রোগীর সংখ্যা কয়েক গুণ বেশি। এমন সংকটময় সময়ে দীর্ঘ দুই যুগ ধরে দৃঢ় প্রতিশ্রুতি নিয়ে মাদকমুক্ত সমাজ গঠনে কাজ করে যাচ্ছে আলো মাদকাসক্ত পুনর্বাসন কেন্দ্র। বাংলাদেশের হাতে গোনা কয়েকটি মানসম্মত মাদক পুনর্বাসন কেন্দ্রের মধ্যে আলো আজ শীর্ষস্থানে। গত দুই দশকে এখানে হাজার হাজার রোগী সুস্থতা অর্জন করেছেন, যাদের অনেকে ১৪১৫ বছর কিংবা তারও বেশি সময় ধরে ক্লিন অবস্থায় স্বাভাবিক জীবনযাপন করছেন। সমাজে প্রতিষ্ঠিত বহু ব্যক্তির পরিচয়ে আজ যুক্ত রয়েছে-“আলো পুনর্বাসন কেন্দ্রের রিকভারি।” কেউ চাকরিতে, কেউ ব্যবসায়, আবার কেউ সমাজসেবায় সফলভাবে নিজেদের প্রতিষ্ঠিত করেছেন।
আলো মাদকাসক্ত পুনর্বাসন কেন্দ্রটির বিশেষ বৈশিষ্ট্য হলো-নিয়মিত নামাজ ও প্রেয়ার সেশন, পেশাদার কাউন্সেলিং, প্রয়োজনীয় চিকিৎসা, সুষম খাদ্য ব্যবস্থাপনা, প্রতিদিনের ব্যায়াম ও খেলাধুলা,
অভিজ্ঞ সাইকোলজিস্টদের নিয়মিত সেশন, পারিবারিক সম্পর্ক উন্নয়ন কার্যক্রম, কেন্দ্রে রয়েছে বড় খেলার মাঠ, সাংস্কৃতিক আয়োজন এবং নিয়মিত বিনোদনমূলক প্রোগ্রাম।
সুস্থতা অর্জনকারী রোগীরা চাইলে আজীবন ফ্রি ফলোআপ সুবিধা গ্রহণ করতে পারেন।
আলো মাদকাসক্ত পুনর্বাসন কেন্দ্র সম্পূর্ণ একটি সেবামূলক প্রতিষ্ঠান। তারা মাদকাসক্তিকে শুধু ব্যক্তিগত নয়, পারিবারিক ও সামাজিক সমস্যা হিসেবে বিবেচনা করে। তাই রোগীর পাশাপাশি পরিবারকেও প্রস্তুত ও সচেতন করার ওপর বিশেষ গুরুত্ব দেওয়া হয়, যাতে রোগী পুনরায় মাদকে আসক্ত না হয়।
চট্টগ্রামে মাদকাসক্তের সংখ্যা দ্রুত বাড়লেও মানসম্মত মাদক পুনর্বাসন কেন্দ্রের সংখ্যা খুবই কম। বিশেষ করে তরুণ সমাজ সবচেয়ে বেশি ঝুঁকির মুখে। তাই প্রয়োজন-মাদকের সহজলভ্যতা কমানো, পারিবারিক নজরদারি বৃদ্ধি, শিক্ষাপ্রতিষ্ঠানে সচেতনতা কার্যক্রম, দ্রুত চিকিৎসা ও সঠিক পুনর্বাসন কেন্দ্র নির্বাচন। মাদক ছাড়ার প্রথম ধাপ হলো স্বীকার করা-“আমি সাহায্য চাই।” এরপর অভিজ্ঞ ও লাইসেন্সপ্রাপ্ত মাদক পুনর্বাসন কেন্দ্রের সহায়তা নেওয়া জরুরি। চিকিৎসা, কাউন্সেলিং, আধ্যাত্মিক চর্চা, সুষম খাদ্যাভ্যাস, খেলাধুলা, পরিবার ও সমাজের সহায়তাড়সব মিলেই একজন রোগী সুস্থ জীবনের পথে এগিয়ে যেতে পারে।