সংবাদ শিরোনাম
দৈনিক আমার কাগজ-এ নিয়োগ পেলেন তৈয়বুর রহমান। বটিয়াঘাটায় ‘গণভোট ২০২৬’ বিষয়ক জনসচেতনতামূলক সভা অনুষ্ঠিত। দৈনিক বর্তমান বাংলা’র মৌলভীবাজার জেলা প্রতিনিধি হিসেবে স্বরণ সিং নিয়োগপ্রাপ্ত। খানখানাবাদে গণভোট বিষয়ে গণসচেতনতামূলক প্রদর্শনী ও লিফলেট বিতরণ। টানা তৃতীয়বার শ্রেষ্ঠ এএসআই নির্বাচিত পেকুয়ার সন্তান আবদুল খালেক। প্রয়াত বীর মুক্তিযোদ্ধা মোয়াজ্জেম হোসেন মাসুদের স্মরণে দোয়া মাহফিল করেছে বন্ধুমহল। বিএনপির মনোনয়ন দৌড়ে শেষ পর্যন্ত জয়ী কামরুজ্জামান কামরুল। সাবেক প্রধানমন্ত্রী ও রাষ্ট্রপতির রুহের মাগফিরাত কামনায় দোয়া ও আলোচনা সভা অনুষ্ঠিত। দেশবরেণ্য নেত্রী মরহুমা বেগম খালেদা জিয়ার স্মরণসভা করল চট্টগ্রাম সাংবাদিক সংস্থা রাজাবাড়িতে বিএনপির কর্মীদের উদ্যোগে বিএনপির চেয়ারপার্সন সাবেক প্রধানমন্ত্রী দেশনেত্রী বেগম খালেদা জিয়ার আত্মার মাগফেরাত কামনায় দোয়া মাহফিল
সোমবার, ১৯ জানুয়ারী ২০২৬, ১০:১৫ অপরাহ্ন

আর কোন খাঁচা নয়—মানবতা প্রথমে: মাসুমা খানের মুক্তি ন্যায়বিচারের ঐতিহাসিক বিজয়

বিশেষ সংবাদদাতাঃ / ২২২ বার দেখা হয়েছে
আপডেট: শনিবার, ১৫ নভেম্বর, ২০২৫

বিশেষ সংবাদদাতাঃ

মাসুমা খানের স্বাধীনতা আজ মানবাধিকার, ন্যায়বিচার ও মানবিক মূল্যবোধের এক দীপ্ত ইতিহাস হয়ে দাঁড়িয়েছে। এটি শুধু একটি আদালতের রায় নয়—এটি একটি সন্তানের চোখের পানির জয়, একটি পরিবারের ছিন্নবন্ধন পুনরুদ্ধারের জয়, আর সমাজের মানবতাবোধের জাগরণের জয়। তার মুক্তি যেন এক দীর্ঘ অমানবিক বন্দিদশা থেকে মানবতার মুক্তির বার্তা।

২০২৫ সালের ৫ নভেম্বর আদালত তার পক্ষে সাময়িক নিষেধাজ্ঞা, প্রাথমিক নিষেধাজ্ঞা এবং তাৎক্ষণিক মুক্তির আদেশ দেন। বিচারকের এই সিদ্ধান্ত মানবিক ন্যায়ের শক্তিকে পুনরায় প্রতিষ্ঠিত করে। রায়ের পরপরই দীর্ঘ অপেক্ষার অবসান ঘটে—পরিবারের কোলে ফিরে আসেন মাসুমা খান।

তার মুক্তির দাবিতে এরই মধ্যে নিউ ইয়র্ক, ক্যালিফোর্নিয়া ও অন্যান্য অঙ্গরাজ্যের রাস্তায় গর্জে ওঠে জনতার কণ্ঠ। “No More Cages”, “Humanity First”, “Free Masuma Khan”—এই স্লোগানগুলো অন্যায়ের বিরুদ্ধে মানুষের ঐক্যকে শক্তিশালী প্রতীক হিসেবে তুলে ধরে। বাংলাদেশি-আমেরিকান কমিউনিটি থেকে শুরু করে মানবাধিকার সংগঠন, আইনজীবী, ছাত্র-তরুণ—সবাই এই অন্যায় আটক প্রত্যাহারের দাবিতে এক কাতারে দাঁড়ান।

ঘটনার গুরুত্ব দ্রুতই মার্কিন রাজনীতিকদের নজরে আসে। একাধিক কংগ্রেসওম্যান ও সিনেটর ICE কর্তৃপক্ষের সাথে প্রত্যক্ষ যোগাযোগ করে তড়িঘড়ি বন্ড শুনানির দাবি জানান এবং ঘটনার তদন্তে জোর দেন। তারা স্পষ্টভাবে বলেন—এই ধরনের আচরণ আমেরিকার মানবাধিকার নীতি ও নৈতিকতার বিরুদ্ধে যায়। তাদের অবস্থান ঘটনাটিকে শুধু একটি আইনি ইস্যু নয়, বরং একটি বৃহত্তর মানবিক প্রশ্নে পরিণত করে।

২৮ বছর ধরে যুক্তরাষ্ট্রে বসবাসকারী মাসুমা খান শান্তিপূর্ণ জীবন কাটাচ্ছিলেন ক্যালিফোর্নিয়ার আল্টাডেনায় তার মার্কিন নাগরিক স্বামী ও কন্যাকে নিয়ে। কিন্তু অক্টোবর ২০২৫—একটি রুটিন USCIS চেক-ইনে গিয়ে হঠাৎই তিনি আটক হন ICE-এর হাতে। কোনো নতুন অভিযোগ ছিল না, বরং ১৯৯৯ সালের পুরনো গ্রিন কার্ড–সংক্রান্ত আদেশকে কেন্দ্র করেই এই কঠোর ব্যবস্থা নেওয়া হয়। আটক অবস্থায় তিনি তীব্র চিকিৎসাহীনতা ও যোগাযোগ-বঞ্চনার মুখে পড়েন, যা ক্ষোভ বাড়ায় জনমনে।

তার মেয়ে রিয়া খানের সাক্ষ্য দেশ-বিদেশে আলোড়ন তোলে। Nick Valencia-কে দেওয়া লাইভ সাক্ষাৎকারে তিনি কাঁদতে কাঁদতে বলেন—“আমি কখনো ভাবিনি, আমার মাকে কারাগারে দেখতে হবে।” মায়ের অসুস্থতা, চিকিৎসা না পাওয়া এবং অবমাননাকর আটক পরিবেশ নিয়ে তার বক্তব্য সবার হৃদয় স্পর্শ করে।

এদিকে আইনজীবীরা আদালতে বন্ড, চিকিৎসা এবং নিষেধাজ্ঞার আবেদন জানিয়ে সর্বাত্মক লড়াই চালিয়ে যান। Congressional Hispanic Caucus-এর চেয়ারম্যান Adriano Espaillat ও Nydia Velázquez Manhattan ICE সেন্টার পরিদর্শন করে পরিস্থিতির ভয়াবহতা সরেজমিনে দেখেন এবং জরুরি ভিত্তিতে তদন্তের দাবি জানান।

অবশেষে ৪ নভেম্বর শুনানি শেষে ৫ নভেম্বর আদালত মাসুমা খানের মুক্তির আদেশ দেন। রায়ের মুহূর্তে আদালতের ভেতর-বাইরে বহু মানুষের হৃদয়ে স্বস্তির ঢেউ বইতে থাকে। পরিবার তাকে ফিরে পেয়ে কান্নায় ভেঙে পড়ে—এটি ছিল অন্যায়ের টানাপোড়েনে ক্লান্ত এক পরিবারের দীর্ঘ প্রতীক্ষিত জয়।

মাসুমা খানের মুক্তি আজ প্রমাণ করে—মানুষ যখন অন্যায়ের বিরুদ্ধে এক কণ্ঠে দাঁড়ায়, তখন ন্যায়বিচারের দ্বার খোলবেই। তার জীবন যেন আবার স্বস্তি, নিরাপত্তা ও শান্তিতে ফিরে আসে—এটাই সবার প্রার্থনা।


আপনার মতামত লিখুন :

Leave a Reply

Your email address will not be published. Required fields are marked *

এই বিভাগের আরও খবর