সংবাদ শিরোনাম
বাংলা নিউজ মিডিয়ার কর্ণধার সোহেল সরকারের বড় ছেলে সালমান সরকারের ৪র্থ জন্মবার্ষিকী উদযাপিত বিএনপির ক্যাডাররা নিজেদের দলের লোকদেরও হত্যা করছে: নাহিদ ইসলাম সুনামগঞ্জ-বিশ্বম্ভরপুর সড়কে ৮৭ কোটি টাকার কাজে অনিয়মের অভিযোগ, পরিদর্শনে এমপি নুরুল ইসলাম সীমান্তের অবৈধ বিড়ি বাণিজ্যে কারা জড়িত, অনুসন্ধানের দাবি কবি আবুল বশর আনসারীর লেখনীতে সিলেটের শেকড়ের প্রতি গভীর মমত্ববোধ ফুটে উঠেছে: চিত্রনায়ক হেলাল খান প্রবাসে মুক্তিযুদ্ধের সংগঠক অধ্যাপক আবুল হাশেমকে শেষ বিদায়: বৃটেন কমিউনিটির শোক ব্যাপক উৎসাহ-উদ্দীপনায় এসএসএস-এর ‘বেস্ট পারফরম্যান্স অ্যাওয়ার্ড ২০২৬’ অনুষ্ঠিত High Rollers Question Whether Messi Casino Bonus Offers Beat Competitor Sites রিয়াদে সংবাদ সম্মেলনের মাধ্যমে বিআইএস ইংরেজি শাখার গভর্নিং বডির নির্বাচন বয়কটের ঘোষণা বিএনপি প্রার্থীদের* বকশীগঞ্জে মিনি ম্যারাথন অনুষ্ঠিত।
বৃহস্পতিবার, ২৯ অক্টোবর ২০২৬, ০২:০০ পূর্বাহ্ন

মাদক ও চোরাচালান ঘিরে ঘুষ বাণিজ্য: ওসির বিরুদ্ধে গুরুতর অভিযোগ

সহকারী বার্তা সম্পাদক- ছাদেক আহমাদ। / ১২৭ বার দেখা হয়েছে
আপডেট: রবিবার, ২২ ফেব্রুয়ারী, ২০২৬

আমির হোসাইন স্টাফ রিপোর্টার;

সুনামগঞ্জের তাহিরপুর থানার অফিসার ইনচার্জ (ওসি) মো. আমিনুল ইসলামের বিরুদ্ধে প্রতি মাসে প্রায় অর্ধকোটি টাকা অবৈধ আয়ের গুরুতর অভিযোগ উঠেছে। মাদক, ভারতীয় আমদানি নিষিদ্ধ বিড়ি, গবাদিপশু, কয়লা-চুনাপাথর, খাদ্যপণ্য ও খনিজ বালু-পাথর চোরাচালানকে কেন্দ্র করে এই অর্থ আদায় করা হচ্ছে বলে অভিযোগে উল্লেখ করা হয়।
অভিযোগ সূত্রে জানা যায়, পুলিশের কথিত সোর্স হিসেবে পরিচিত চোরাকারবারি উজ্জল ও মাদক কারবারি বাবুলের মাধ্যমে এই ঘুষ আদায় কার্যক্রম পরিচালিত হচ্ছে। এতে স্থানীয় রাজনৈতিক পরিচয়ধারী একাধিক ব্যক্তির সহযোগিতার অভিযোগও উঠে এসেছে।
গোয়েন্দা প্রতিবেদনে গুরুতর তথ্য
একটি বিশেষ গোয়েন্দা সংস্থার অনুসন্ধান প্রতিবেদনে দাবি করা হয়েছে, ওসি আমিনুল ইসলাম দায়িত্ব গ্রহণের পর থেকেই অবৈধ চোরাচালান সিন্ডিকেটের সঙ্গে গোপন সমঝোতায় জড়িয়ে পড়েন। অভিযোগ রয়েছে, দায়িত্ব নেওয়ার পরপরই তিনি একাধিক মামলার এক আসামির স্বজনের কাছ থেকে একটি রঙিন টেলিভিশন উপহার হিসেবে গ্রহণ করেন এবং জাদুকাটা নদীতে অবৈধভাবে পাড় কাটা ও সেইভ–ড্রেজার মেশিনে বালু-পাথর উত্তোলনের আগাম ‘চুক্তি’ বাবদ ১৫ লাখ টাকা নেন।
প্রতিবেদনে আরও বলা হয়, জাদুকাটা, পাটলাই ও মাহারাম নদীর বিভিন্ন অংশে ইজারাবিহীনভাবে ড্রেজার ও সেইভ মেশিন বসিয়ে কোটি কোটি টাকার খনিজ বালু-পাথর লুট করা হচ্ছে। এই কার্যক্রম থেকে প্রতিদিন কয়েক লাখ টাকা ঘুষ আদায় করা হয়, যা সংশ্লিষ্ট পুলিশ সদস্য ও সোর্সদের মাধ্যমে সংগ্রহ করা হচ্ছে।
বিটভিত্তিক ঘুষ আদায়ের অভিযোগ
অভিযোগ অনুযায়ী, তাহিরপুর থানার অন্তর্ভুক্ত সাতটি বিট এলাকায় ভারতীয় বিড়ি, মাদক, গবাদিপশু, থান কাপড়, কসমেটিকস ও খাদ্যপণ্য চোরাচালানকারীদের কাছ থেকে প্রতি মাসে কমপক্ষে ১৫ থেকে ২০ লাখ টাকা ঘুষ আদায় করা হচ্ছে। এই অর্থ আদায়ে বিট অফিসার, পুলিশের সোর্স ও ওসির ব্যক্তিগত সোর্স হিসেবে পরিচিত মোটরসাইকেল চালক উজ্জলের ভূমিকার কথা অভিযোগে উঠে এসেছে।
বাদাঘাট পুলিশ তদন্ত কেন্দ্রের এক এএসআইয়ের বিরুদ্ধে সরাসরি মাঠে নেমে চোরাকারবারিদের কাছ থেকে ঘুষ আদায়ের অভিযোগও রয়েছে। বিভিন্ন হাট-বাজার ও সীমান্তবর্তী এলাকায় দিনের পর দিন মোটরসাইকেলে ঘুরে এই অর্থ সংগ্রহ করা হচ্ছে বলে অভিযোগকারীরা দাবি করেছেন।
স্থানীয়দের ক্ষোভ
এলাকাবাসীর অভিযোগ, মাদক কারবারি ও তাদের সহযোগীদের দৌরাত্ম্যে সাধারণ মানুষ চরম ভোগান্তিতে পড়েছে। রাস্তাঘাট, হাট-বাজার ও পাড়া-মহল্লায় মাদকসেবীদের উৎপাত, নদীর পাড় কাটা, রাতভর পিকআপ ও নৌপথে অবৈধ বালু পরিবহন অব্যাহত থাকলেও কার্যকর ব্যবস্থা নেওয়া হচ্ছে না। একের পর এক অভিযোগ জানাতে থানায় গেলে ভুক্তভোগীদের শুধু সাধারণ ডায়েরি (জিডি) করার পরামর্শ দেওয়া হয়।
ওসির বক্তব্য
এসব অভিযোগের বিষয়ে জানতে চাইলে তাহিরপুর থানার ওসি মো. আমিনুল ইসলাম বলেন,
“আমার বিরুদ্ধে আনা সব অভিযোগ মিথ্যা। একটি টেলিভিশন কেউ উপহার হিসেবে দিয়ে গেছেন, তবে তিনি কোনো মামলার আসামির স্বজন কি না, তা আমার জানা নেই।”
তিনি আরও বলেন,
“পুলিশের সোর্স হোক বা মাদক কারবারি—এলাকাবাসী যদি সমস্যা মনে করে, তাহলে থানায় এসে জিডি করতে হবে। এর বাইরে পুলিশের করার কিছু নেই।”
দাবি তদন্তের
স্থানীয় সচেতন মহল মনে করছে, অভিযোগগুলোর নিরপেক্ষ ও উচ্চপর্যায়ের তদন্ত না হলে সীমান্তবর্তী এই উপজেলায় মাদক, চোরাচালান ও পরিবেশ ধ্বংসের লাগাম টানা সম্ভব হবে না। তারা দ্রুত প্রশাসনের হস্তক্ষেপ ও জবাবদিহিমূলক তদন্তের দাবি জানিয়েছেন।


আপনার মতামত লিখুন :

Leave a Reply

Your email address will not be published. Required fields are marked *

এই বিভাগের আরও খবর