সংবাদ শিরোনাম
লন্ডনে ব্রিটিশ-বাংলাদেশি কারি শিল্পের জয়গান: সেরা রেস্তোরাঁ ও শেফদের বিসিএ সম্মাননা অনুষ্ঠিত বালিয়াডাঙ্গী সাংবাদিক ইউনিয়নের নেতৃত্বে তিন সাংবাদিক, জুলফিকার-ইলিয়াস-হাসান নারী উদ্যোক্তাদের উন্নয়ন শীর্ষক আলোচনা সভা ও স্বপ্নজয়ী নারী সম্মাননা ২০২৬ প্রদান অনুষ্ঠান অনুষ্ঠিত জামালপুরের বকশীগঞ্জে মিনি ম্যারাথন অনুষ্ঠিত হয়েছে চরম্বা ইউনিয়নে চেয়ারম্যান পদে নির্বাচন করতে চান আইনজীবী শফিকুল আলম (লিটন) সুরঝংকার একাডেমির সভাপতির মাতার মাগফেরাত কামনায় দোয়া মাহফিল অনুষ্ঠিত বাংলা নিউজ মিডিয়ার কর্ণধার সোহেল সরকারের বড় ছেলে সালমান সরকারের ৪র্থ জন্মবার্ষিকী উদযাপিত বিএনপির ক্যাডাররা নিজেদের দলের লোকদেরও হত্যা করছে: নাহিদ ইসলাম সুনামগঞ্জ-বিশ্বম্ভরপুর সড়কে ৮৭ কোটি টাকার কাজে অনিয়মের অভিযোগ, পরিদর্শনে এমপি নুরুল ইসলাম সীমান্তের অবৈধ বিড়ি বাণিজ্যে কারা জড়িত, অনুসন্ধানের দাবি
মঙ্গলবার, ০৩ নভেম্বর ২০২৬, ০৮:০৪ অপরাহ্ন

নীল রঙের ছাতা—-মোঃ সেলিম উদ্দীন

তরিকুল ইসলাম, বিশেষ প্রতিনিধি / ৩৪২ বার দেখা হয়েছে
আপডেট: মঙ্গলবার, ২০ জানুয়ারী, ২০২৬

লেখক মোঃ সেলিম উদ্দীন

রাশেদ শহরে এসেছিল একটুখানি স্বপ্ন নিয়ে। পকেটে বেশি টাকা ছিল না, কিন্তু বিশ্বাস ছিল, মানুষ পাশে থাকলেই জীবন সহজ হয়। প্রথম দিকে সত্যিই সবাই তাকে আপন করে নিয়েছিল। চা-দোকানের হাসি, সহকর্মীদের কাঁধে হাত, পরিচিতদের উৎসাহ, সবকিছুতেই সে উষ্ণতা খুঁজে পেত। রাশেদের মনে হতো, মানুষই পৃথিবীর সবচেয়ে বড় সম্পদ।

কিন্তু সময় বদলাতে বেশি দেরি হয়নি। চাকরিটা চলে যাওয়ার পর ফোনের রিং কমে এলো। যাদের সঙ্গে প্রতিদিন গল্প হতো, তারা হঠাৎ ব্যস্ত হয়ে পড়ল। কেউ আর সময় পায় না, এই অজুহাতটাই সবচেয়ে বেশি শুনল সে। তখনই রাশেদ বুঝতে শিখল, প্রয়োজন ফুরোলে মানুষের গুরুত্বও ফুরিয়ে যায়।

একদিন অফিসের সামনে দাঁড়িয়ে বৃষ্টিতে ভিজছিল রাশেদ। হাতে ছিল একটি পুরোনো নীল রঙের ছাতা, যেটা সে বহু বছর আগেও ব্যবহার করত। সেই ছাতার নিচেই একসময় বন্ধুদের জায়গা হতো, আজ সেখানে শুধু সে একাই। হঠাৎ মনে পড়ল, জীবনে সবাইকে খুশি করা যায় না। সে যতই সৎ থাকার চেষ্টা করুক, কারও চোখে সে ব্যর্থ, কারও চোখে অপ্রয়োজনীয়।

কঠিন সময়ে রাশেদ শিখল টাকার গুরুত্ব। আবেগ দিয়ে চলা যায় না, কিন্তু বাস্তবতাকে অস্বীকার করলেও জীবন থেমে থাকে না। সে ছোট একটি কাজ নিল, ধীরে ধীরে নিজেকে গুছিয়ে নিল। এই পথে অনেক মানুষ এল, কেউ আশ্বাস দিয়ে চলে গেল, কেউ কষ্ট দিয়ে শিক্ষা দিয়ে গেল। তবে একজন মাত্র থেকে গেল, সে নিজেই।

রাশেদ বুঝল, জীবনের যুদ্ধ কাউকেই ধার দেওয়া যায় না। ভুল করেই মানুষ বড় হয়, পড়ে গিয়েই দাঁড়াতে শেখে। সময় কাউকে অপেক্ষা করায় না, তাই সে আর পেছনে তাকাল না।

একদিন নতুন একটি চাকরি নিয়ে অফিসে ঢুকল রাশেদ। সেদিন বৃষ্টি হচ্ছিল না। নীল ছাতাটা সে সঙ্গে নেয়নি। তার আর প্রয়োজন ছিল না, কারণ এখন সে জানে, পরিপক্বতা মানে বাস্তবতাকে মেনে নিয়ে নিজের পথ নিজেই তৈরি করা।

রাশেদ শিখল, জীবনের যুদ্ধ নিজেকেই লড়তে হবে। ভুল, ব্যর্থতা, আঘাত সবই শিখনের ধাপ। সময় কাউকে অপেক্ষা করে না। ঝড় থেমে গেলে, বৃষ্টি শুকিয়ে গেলে, ছাতা চলে যায়। কিন্তু নিজের অধ্যবসায়, শিক্ষা ও দৃঢ়তা চিরকাল থাকে।

রাশেদ এবার ছাতার ছায়া ছেড়ে, নিজের পথ নিজেই আঁকতে শুরু করল। ঝড় আসুক বা সূর্য উঠুক, সে জানে, জীবনের প্রকৃত শক্তি হলো বাস্তবতা মেনে এগিয়ে যাওয়া।


আপনার মতামত লিখুন :

Leave a Reply

Your email address will not be published. Required fields are marked *

এই বিভাগের আরও খবর