সংবাদ শিরোনাম
চট্টগ্রাম বেস্ট ফিজিওথেরাপি হসপিটাল রংপুরের ধাপ শিমুলবাগে মাদকবিরোধী অভিযানে একজন গ্রেফতার হাজীরহাট থানার বিশেষ অভিযানে কুখ্যাত মাদক ব্যবসায়ী আঃ রাজ্জাক গ্ৰেফতার  স্পেন কাতালোনিয়া বিএনপির (আংশিক) কমিটির সাংগঠনিক সম্পাদক নির্বাচিত হলেন তরুণ নেতা লায়েবুর রহমান // Young BNP Leader Layebur Rahman Appointed Organizing Secretary of BNP Catalonia (Partial Committee), Spain স্পেন কাতালোনিয়া বিএনপির কমিটির সাংগঠনিক সম্পাদক নির্বাচিত হলেন তরুণ নেতা লায়েবুর রহমান // Young BNP Leader Layebur Rahman Appointed Organizing Secretary of BNP Catalonia (Partial Committee), Spain চামড়া শিল্প রক্ষায় প্রশংসনীয় উদ্যোগ — আঞ্জুমানে আহমদিয়া সুন্নিয়া আলিয়া মাদ্রাসা ট্রাস্টকে আন্তরিক কৃতজ্ঞতা; *ঈদুল আযহার শুভেচ্ছা বাণী** হজ্ব ও মদিনা শরীফ জিয়ারতের ফজিলত: মাওলানা মোঃ জাকারিয়া খাঁন সিরাজী চুয়েটের প্রকৌশলী মকবুল হোসেনের ইশারায় সাংবাদিক পরিবার ভিটেমাটি ছাড়া রিয়াদে বাংলাদেশ প্রবাসী অধিকার পরিষদের প্রতিষ্ঠা বার্ষিকী উদযাপন উপলক্ষে শীর্ষক আলোচনা সভা;
শুক্রবার, ১২ জুন ২০২৬, ০৭:২৭ অপরাহ্ন

কাগমারী সম্মেলনে স্বাধীনতার পক্ষে প্রকাশ্য বীজ বুনেছিলেন মওলানা ভাসানী: জেএসএফ বাংলাদেশ।

সহকারী বার্তা সম্পাদক মোঃ মনোয়ার হোসেন সেলিম / ১৭৯ বার দেখা হয়েছে
আপডেট: বুধবার, ২১ জানুয়ারী, ২০২৬

হাকিকুল ইসলাম খোকন,বাপসনিউজঃ

জাতীয় সম্মিলিতি ফোরাম ( জেএসএফ ) বাংলাদেশ কাগমারী সম্মেলনে দিবস উপলক্ষে ১৬ ফেব্রুয়ারি ২০২৬,এক বিবৃতিতে সংগঠক হাজী আনোয়ার হোসেন লিটন বলেছেন, মওলানা আবদুল হামিদ খান ভাসানী ১৯৫৭ সালে কাগমারী সম্মেলনে বাংলাদেশের স্বাধীনতার পক্ষে প্রকাশ্য ও রাষ্ট্র স্বাধীনতার বীজ বপন করেছিলেন মাওলানা আব্দুল হামিদ খান ভাসানী। মওলানা ভাসানী আমাদের স্বাধীনতা ও মুক্তির সংগ্রামের অবিসংবাদিত নেতা। বিগত ফ্যাসিস্ট সরকার ভাসানীর অবদান মুছে ফেলে ইতিহাস বিকৃতি করেছে। মওলানা ভাসানীর জীবন ও কর্ম যথাযথভাবে নতুন প্রজন্মের কাছে উপস্থাপন করলে জাতি উপকৃত হবে।খবর আইবিএননিউজ।

১৯৫৭ সালের ৬, ৭ ও ৮ ফেব্রুয়ারি টাঙ্গাইলের কাগমারীতে মওলানা ভাসানী ৫৪টি তোরণের মধ্য দিয়ে ‘ঐতিহাসিক কাগমারী সম্মেলন’ উদ্বোধন করেন। কাগমারী সম্মলনে পশ্চিম পাকিস্তানিদের ‘ওয়ালাইকুম আসসালাম’ বলে পূর্ব পাকিস্তানের (বাংলাদেশ) স্বায়ত্তশাসনের দাবি উত্থাপন করেন তিনি। সম্মেলনে মওলানা ভাসানী স্বায়ত্তশাসনের যে দাবি জানিয়েছিলেন তারই ধারাবাহিকতায় পরবর্তীতে স্বাধীনতার আন্দোলন দানা বাঁধে।

কাগমারী সম্মেলনে প্রদত্ব বক্তব্যে মওলানা ভাসানী শেষ পর্যায়ে রেগে উঠে শহীদ সোহরাওয়ার্দী কে লক্ষ্য করে বলেছিলেন,“শহীদ, তুমি আজ আমাকে পাক-মার্কিন সামরিক চুক্তি সমর্থন করতে বলছো। তুমি যদি আমাকে বন্দুকের নলের সামনে দাঁড় করিয়ে জিজ্ঞাস করো, আমি বলবো, ‘না’! তুমি যদি আমাকে কামানের সামনে দাঁড় করিয়ে জিজ্ঞাস করো আমি বলবো ‘না’! ‘না’! তুমি আমাকে যদি আমার কবরে গিয়েও জিজ্ঞাস করো সেখান থেকে আমি চিৎকার করে বলবো, ‘না’! ‘না’!

কাগমারী সম্মেলনের ফলশ্রুতির এই সভায় মওলানা ভাসানী তার বক্তৃতায় অন্যান্য বিষয়ের মধ্যে বলেন, পূর্ববাংলা পাকিস্তানের কেন্দ্রীয় শাসকদের দ্বারা শোষিত হতে থাকলে পূর্ববঙ্গবাসী তাদের সালামু ওয়ালাইকুম জানাতে বাধ্য হবে। এছাড়া কাগমারী সম্মেলনে ভাসানী পাক-মার্কিন সামরিক চুক্তি বাতিলের দাবি জানান। প্রধানমন্ত্রী হোসেন শহীদ সোহ্‌রাওয়ার্দী সেই দাবি প্রত্যাখান করলে ১৮ই মার্চ আওয়ামী লীগ থেকে পদত্যাগ করেন। একই বছর ২৫শে জুলাই তার নেতৃত্বে ঢাকার রূপমহল সিনেমা হলে ‘ন্যাশনাল আওয়ামী পার্টি’ (ন্যাপ) গঠিত হয়। ন্যাপ প্রতিষ্ঠার মাধ্যমে ভাসানী প্রকাশ্যে বামপন্থী রাজনীতির সাথে জড়িয়ে পড়েন এবং এর পর থেকে সবসময় বাম ধারার রাজনীতির সাথেই সংশ্লিষ্ট ছিলেন। ১৯৫৮-র ৭ই অক্টোবর দেশে সামরিক শাসন জারি হলে মার্শাল আইয়ুব খান ক্ষমতায় অধিষ্ঠিত হয়ে সকল রাজনৈতিক দলের কর্মকাণ্ড নিষিদ্ধ ঘোষণা করে। ১২ই অক্টোবর মাওলানা ভাসানীকে কুমুদিনী হাসপাতাল থেকে গ্রেফতার করা হয়। ঢাকায় ৪ বছর ১০ মাস কারারুদ্ধ থাকেন।

মওলানা ভাসানী ছিলেন একজন দূরদর্শী রাজনীতিবিদ। ১৯৫৭ সালে তিনি কাগমারী সম্মেলনে পাকিস্তানিদের উদ্দেশে ‘আস্সালামু আলাইকুম’ বলে তাদের থেকে আলাদা হওয়ার ইঙ্গিত দিয়েছিলেন এবং সে ধারাবাহিকতায় ১৯৭১ সালে মহান মুক্তিযুদ্ধ ও আমাদের গৌরবময় স্বাধীনতা অর্জন। মওলানা ভাসানী বাংলাদেশের স্বাধীনতা-সার্বভৌমত্ব সংরক্ষণ, দেশের জনগণের অর্থনৈতিক মুক্তি, আইনের শাসন প্রতিষ্ঠা এবং জাতীয় ঐক্যের যে বাণী রেখে গেছেন, তা আমাদের জন্য অনুকরণীয় দৃষ্টান্ত।

কাগমারী সম্মেলনেই মওলানা ভাসানী সর্বপ্রথম বিশ্ববাসীর মনে পাকিস্তানি শাসক গোষ্ঠীর বিরুদ্ধে বাংলাদেশের মানুষের স্বাধিকার আন্দোলন সম্পর্কে ধারণা দেন। কাগমারী সম্মেলনে মওলানা ভাসানীর দাবিকৃত স্বায়ত্তশাসন প্রতিষ্ঠার আন্দোলনই পর্যায়ক্রমে স্বাধীনতা আন্দোলনে রূপ নেয় এবং স্বাধীন সার্বভৌম বাংলাদেশের অভ্যুদয় ঘটে। ১৯৫৪ সালের নির্বাচনে যুক্তফ্রন্ট (হক-ভাসানী) তৎকালীন পাকিস্তানের শাসক গোষ্ঠীর বিরুদ্ধে গণ মানুষের ব্যাপক সমর্থনে বিজয়ী হয়।


আপনার মতামত লিখুন :

Leave a Reply

Your email address will not be published. Required fields are marked *

এই বিভাগের আরও খবর