হজ্ব শব্দটি আরবী। আভিধানিক অর্থ হলো ইচ্ছা করা, সঙ্কল্প করা বা কোনো গন্তব্যের উদ্দেশ্যে গমন করা।
ইসলামি পরিভাষায়, আল্লাহর সন্তুষ্টি লাভের উদ্দেশ্যে নির্দিষ্ট সময়ে, নির্দিষ্ট নিয়মে ও নির্দিষ্ট শর্ত সাপেক্ষে পবিত্র কাবা শরিফ এবং মক্কা নগরী সংলগ্ন স্থানগুলোতে বিশেষ ইবাদত বা তীর্থযাত্রা সম্পন্ন করাকে হজ বলা হয়।
হজ্বের ফজিলতঃ মহান আল্লাহ পাক কুরআনুল কারিমে বলেন, وَلِلّٰہِ عَلَی النَّاسِ حِجُّ الۡبَیۡتِ مَنِ اسۡتَطَاعَ اِلَیۡہِ سَبِیۡلًا মানুষের মধ্যে যারা সেখানে পৌঁছার সামর্থ্য রাখে, তাদের উপর আল্লাহর জন্য এ ঘরের হজ্জ করা ফরয। (সূরা আলে ইমরান ৯৭)।
এই আয়াতে কারিমা দ্বারা বুঝা যায় যারা সামর্থ্যবান তারা জিবনে ১ বার হজ্ব করা ফরজ।
এই সম্পর্কে হাদিসে মুবারাকার মধ্যে বর্নিত আছে। যেমন حَدَّثَنَا عَبْدُ الْعَزِيزِ بْنُ عَبْدِ اللهِ حَدَّثَنَا إِبْرَاهِيمُ بْنُ سَعْدٍ عَنْ الزُّهْرِيِّ عَنْ سَعِيدِ بْنِ الْمُسَيَّبِ عَنْ أَبِي هُرَيْرَةَ قَالَ سُئِلَ النَّبِيُّ صلى الله عليه وسلم أَيُّ الأَعْمَالِ أَفْضَلُ قَالَ إِيمَانٌ بِاللهِ وَرَسُولِهِ قِيلَ ثُمَّ مَاذَا قَالَ جِهَادٌ فِي سَبِيلِ اللهِ قِيلَ ثُمَّ مَاذَا قَالَ حَجٌّ مَبْرُورٌ
আবূ হুরাইরা (রাঃ) থেকে বর্ণিতঃ
নবী (সাল্লাল্লাহু ‘আলাইহি ওয়া সাল্লাম)- কে জিজ্ঞেস করা হলো, সর্বোত্তম আমল কোনটি? তিনি বললেনঃ আল্লাহ ও তাঁর রাসূলের প্রতি ঈমান আনা। জিজ্ঞেস করা হল , অতঃপর কোনটি? তিনি বললেনঃ আল্লাহর পথে জিহাদ করা। জিজ্ঞেস করা হল, অতঃপর কোনটি? তিনি বলেনঃ হজ্জ-ই-মাবরূর (মাকবূল হজ্জ)।
সহিহ বুখারী, হাদিস নং ১৫১৯
হাদিসের মান: সহিহ হাদিস।
অপর হাদিসে এসেছে, ، عَنْ أَبِي هُرَيْرَةَ، قَالَ: قَالَ رَسُولُ اللَّهِ صَلَّى اللهُ عَلَيْهِ وَسَلَّمَ: " الْحَجَّةُ الْمَبْرُورَةُ: لَيْسَ لَهَا جَزَاءٌ إِلَّا الْجَنَّةُ، وَالْعُمْرَةُ إِلَى الْعُمْرَةِ كَفَّارَةٌ لِمَا بَيْنَهُمَا "
আবূ হুরায়রা (রাঃ) থেকে বর্ণিতঃ
তিনি বলেনঃ রাসূলুল্লাহ্ (সাল্লাল্লাহু ‘আলাইহি ওয়া সাল্লাম) বলেছেনঃ ‘মাবরূর’ (কবুল হওয়া) হজ্জের জন্য জান্নাত ব্যতীত কোন প্রতিদান নেই। আর এক উমরা অন্য উমরার মধ্যবর্তী সময়ের জন্য গুনাহর কাফফারা হয়।
সুনানে আন-নাসায়ী, হাদিস নং ২৬২২
হাদিসের মান: সহিহ হাদিস।
অপর হাদিসে এসেছে -যে ব্যক্তি আল্লাহর উদ্দেশ্য হজ্জ করল এবং এ সময় অশ্লীল কাজ ও গুনাহের কাজ থেকে বিরত থাকল সে মাতৃগর্ভ হতে নবজাত শিশুর ন্যায় নিষ্পাপ হয়ে ফিরবে। বোখারী ও মুসলিম।
অপর হাদিসে এসেছে -হজ্ব ও ওমরাকারীগন হলেন আল্লাহর প্রতিনিধি দল। তারা যদি আল্লাহর কাছে দোয়া করে আল্লাহ পাক তাদের দোয়া কবুল করেন।আমিন। আর যদি ক্ষমা চান তাহলে তাদেরকে ক্ষমা করে দেন।(ইবনে মাজাহ)।
মদিনা শরিফ জিয়ারতের ফজিলতঃ
মদিনা শরীফ জিয়ারত ও মসজিদে নববীতে ইবাদত করা অশেষ সওয়াব ও বরকতের কাজ। প্রিয় নবী হযরত মুহাম্মদ (সা.)-এর রওজা মোবারক জিয়ারত তাঁর নৈকট্য ও সুপারিশ লাভের এক অনন্য মাধ্যম। এর ফজিলত ও গুরুত্ব সম্পর্কে বিস্তারিত নিচে দেওয়া হলো:
★★সরাসরি সাক্ষাতের সওয়াব: হাদিসে বর্ণিত আছে, যে ব্যক্তি ওফাতের পর মহানবী (সা.)-এর রওজা জিয়ারত করবে, সে যেন জীবিত অবস্থায় তাঁর সাথে সাক্ষাৎ করল।
★★সুপারিশ লাভ: স্বয়ং নবীজি (সা.) ঘোষণা করেছেন, যে ব্যক্তি মদিনায় মৃত্যুবরণ করবে, হাশরের ময়দানে তিনি তার জন্য সুপারিশ করবেন।
★★সালামের জবাব লাভ: রওজা মোবারকের সামনে দাঁড়িয়ে দরুদ ও সালাম পাঠ করলে নবীজি (সা.) নিজে তা শোনেন এবং তার জবাব প্রদান করেন।
★★বেহেশতের বাগান: নবীজি (সা.)-এর রওজা ও তাঁর মিম্বরের মধ্যবর্তী স্থানটি (রওজাতুম মিন রিয়াদিল জান্নাহ) বেহেশতের একটি টুকরো বা বাগান।
★★ সালাতের অসীম সওয়াব: মসজিদে নববীতে একবার নামাজ আদায় করা, অন্য যেকোনো মসজিদে (মসজিদুল হারাম ছাড়া) এক হাজার বার নামাজ আদায়ের সমতুল্য।
★★ রাসূল দঃ বলেছেন যে ব্যক্তি আমার রওজামুবারক জিয়ারত করল তার জন্য আমার শাফায়াত ওয়াজিব হয়ে গেল। (তিরমিজি)।
মহান আল্লাহ পাক আমাদেরকে যেন হজ্জ ও মদিনা শরিফ জিয়ারত করার তাওফিক দান করে আমিন।
বাংলা নিউজ মিডিয়া কর্তৃক সম্পাদিত ও প্রকাশিত
সারাদেশে প্রতিনিধি নিয়োগ চলছে WhatsApp & imo 01886833283
সাথী সোহেল জনকল্যাণ ফাউন্ডেশন (আর্তমানবতার সেবায়) বিকাশ/নগদঃ ০১৩০২৪৪৭৩৭৩