মো: সেলিম উদ্দীন
পে-স্কেলের প্রজ্ঞাপন জারির দাবিতে প্রজাতন্ত্রের প্রায় ২২ লক্ষ সরকারি কর্মকর্তা-কর্মচারীর ঐক্যবদ্ধ কণ্ঠস্বর নিঃসন্দেহে একটি গুরুত্বপূর্ণ বাস্তবতা। ন্যায্য মজুরি, মর্যাদাপূর্ণ জীবন এবং সাংবিধানিক অধিকার আদায়—এগুলো কোনো দয়া নয়, রাষ্ট্রের দায়িত্ব। কর্মচারীরা মাথা নত করার জন্য জন্মাননি—এই বার্তাও রাষ্ট্রকে গুরুত্বের সঙ্গে নিতে হবে।
কিন্তু প্রশ্ন থেকেই যায়—রাষ্ট্রের বাকি প্রায় ২০ কোটি মানুষের জন্য আল্টিমেটাম কবে আসবে?
আজ দেশের সাধারণ মানুষ চাল, ডাল, তেল, গ্যাস, বিদ্যুৎ—প্রতিটি মৌলিক চাহিদায় চরম চাপে। বেতন বাড়ুক বা না বাড়ুক, বাজারে আগুন। একজন দিনমজুর, একজন কৃষক, একজন বেসরকারি কর্মচারী কিংবা ক্ষুদ্র ব্যবসায়ীর আয় বাড়েনি, কিন্তু ব্যয় বেড়েছে বহুগুণ। তাদের কোনো সংগঠিত কণ্ঠ নেই, কোনো মিছিল নেই, কোনো আল্টিমেটাম নেই—আছে শুধু নীরব হাহাকার।
রাষ্ট্র যদি একদিকে ২২ লক্ষ মানুষের আর্থিক স্বস্তির কথা ভাবে, তবে অন্যদিকে ২০ কোটি মানুষের ভাতের নিরাপত্তা নিশ্চিত করা আরও বড় সাংবিধানিক দায়িত্ব। পে-স্কেল যদি অধিকার হয়, তবে দ্রব্যমূল্য নিয়ন্ত্রণও জনগণের মৌলিক অধিকার।
প্রশ্ন হলো—
পে-স্কেলের প্রজ্ঞাপন দ্রুত জারি করার দাবি যেমন জোরালো,
ঠিক তেমনই চাল-ডাল-তেল-গ্যাস-বিদ্যুতের দাম কমানোর দাবিতে
কবে জনগণের পক্ষ থেকে রাষ্ট্রকে আল্টিমেটাম দেওয়া হবে?
একটি রাষ্ট্র কখনোই একটি শ্রেণির স্বার্থে আরেকটি বৃহত্তর জনগোষ্ঠীকে উপেক্ষা করতে পারে না। ভারসাম্যহীন সিদ্ধান্ত সামাজিক বৈষম্য বাড়ায়, ক্ষোভ জমায় এবং রাষ্ট্র-নাগরিক সম্পর্ককে দুর্বল করে।
সমাধান সংঘাতে নয়, সমন্বয়ে।
পে-স্কেল হোক—কিন্তু বাজার নিয়ন্ত্রণের কার্যকর পদক্ষেপ ছাড়া তা হবে অসম্পূর্ণ।
কর্মচারীর স্বস্তি চাই—কিন্তু জনগণের পেটে আগুন জ্বালিয়ে নয়।
রাষ্ট্রের কাছে আজ সবচেয়ে বড় দাবি একটাই—
একই সঙ্গে প্রজ্ঞাপন ও মূল্যনিয়ন্ত্রণ।
একই সঙ্গে অধিকার ও দায়িত্ব।
একই সঙ্গে কর্মচারী ও জনগণ।
কারণ শেষ পর্যন্ত রাষ্ট্র টিকে থাকে সংখ্যায় নয়, ন্যায়বোধে।
বাংলা নিউজ মিডিয়া কর্তৃক সম্পাদিত ও প্রকাশিত
সারাদেশে প্রতিনিধি নিয়োগ চলছে WhatsApp & imo 01886833283
সাথী সোহেল জনকল্যাণ ফাউন্ডেশন (আর্তমানবতার সেবায়) বিকাশ/নগদঃ ০১৩০২৪৪৭৩৭৩