লেখক মোঃ সেলিম উদ্দীন
নদীর ধারে ছোট্ট একটি গ্রাম। সেই গ্রামে থাকত আরিফ নামে এক কিশোর। মেধা ছিল, পরিশ্রমও করত, কিন্তু তার মুখে লেগেই থাকত একটি কথা
“আমার দ্বারা কিছু হবে না।”
পরীক্ষায় একটু খারাপ করলে বলত, “আমি তো এমনই।”
খেলায় হারলে বলত, “আমি পারিই না।”
কেউ উৎসাহ দিলে হেসে বলত, “থাক, আমার কপালে এসব নেই।”
গ্রামের লোকজন ভাবত, আরিফ খুব বিনয়ী। কিন্তু আসলে সে প্রতিদিন নিজের ভেতরেই নিজের বিরুদ্ধে রায় দিচ্ছিল।
একদিন গ্রামে এলেন একজন বৃদ্ধ শিক্ষক। সন্ধ্যায় নদীর পাড়ে বসে তিনি ছেলেমেয়েদের গল্প শোনাতেন। আরিফ একদিন চুপচাপ গিয়ে বসল।
বৃদ্ধ হঠাৎ জিজ্ঞেস করলেন,
“আচ্ছা, তোরা কি জানিস, শব্দের ওজন কত?”
সবাই হেসে উঠল। আরিফও।
বৃদ্ধ শান্তভাবে বললেন,
“শব্দের ওজন মাপে দাঁড়িপাল্লায় নয়। মাপে জীবনে।”
তিনি আরিফের দিকে তাকিয়ে বললেন,
“কাল ভোরে নদীতে গিয়ে আয়নায় নিজের মুখ দেখবি।”
আরিফ অবাক হলেও পরদিন ভোরে নদীর ধারে গেল। জলের ওপর নিজের প্রতিবিম্ব দেখেই সে আপন মনে বলল,
“তুই তো কিছুই পারিস না।”
ঠিক তখনই ঢেউ উঠল। মুখটা ভেঙে গেল, অস্পষ্ট হয়ে গেল।
আরিফ আবার বলল,
“আমি চেষ্টা করছি। আমি শিখছি।”
জল শান্ত হয়ে গেল। মুখটা পরিষ্কার দেখা গেল।
সেদিন সন্ধ্যায় সে ছুটে গেল শিক্ষকের কাছে। সব খুলে বলল।
বৃদ্ধ মৃদু হেসে বললেন,
“নদী কিছু করেনি। তোর শব্দই তোর আয়নাকে কাঁপিয়েছে।”
আরিফ জিজ্ঞেস করল,
“তাহলে আমি কী করব, হুজুর?”
বৃদ্ধ বললেন,
“যে ভাষায় তুই নিজের সঙ্গে কথা বলিস, সেই ভাষাতেই তোর ভবিষ্যৎ লেখা হচ্ছে। খারাপ শব্দ দিলে জীবন ঝাপসা হবে, ভালো শব্দ দিলে পরিষ্কার।”
সেদিন থেকে আরিফ বদলে গেল। ভুল করলে বলত,
“আমি শিখছি।”
হারলে বলত,
“আমি আবার চেষ্টা করব।”
ভয় পেলেও বলত,
“আমি পারব।”
বছর কয়েক পর আরিফই হলো গ্রামের স্কুলের শিক্ষক। নতুন ছেলেমেয়েদের সে প্রথম যে পাঠটি দিত, তা বই থেকে নয়—
নিজের জীবন থেকে।
সে বলত,
“নিজের সম্পর্কে কখনো খারাপ কথা বলো না। কারণ শব্দ শুধু বলা হয় না, শব্দ দিয়ে মানুষ গড়া হয়।” আসলে আপনি নিজের সম্পর্কে যে ভাষা ব্যবহার করেন, জীবনও আপনাকে ঠিক সেই ভাষাতেই উত্তর দেয়। শব্দ বদলালেই বদলে যায় বাস্তবতা, বদলে যায় জীবনের গতি পথ, ধরা দেয় সাফল্য ।
বাংলা নিউজ মিডিয়া কর্তৃক সম্পাদিত ও প্রকাশিত
সারাদেশে প্রতিনিধি নিয়োগ চলছে WhatsApp & imo 01886833283
সাথী সোহেল জনকল্যাণ ফাউন্ডেশন (আর্তমানবতার সেবায়) বিকাশ/নগদঃ ০১৩০২৪৪৭৩৭৩