মোঃ সেলিম উদ্দীন
সিংহ মানেই শক্তি, সাহস, নেতৃত্ব আর রাজকীয়তা। গল্পে, কবিতায়, বক্তৃতায়—সবখানেই সিংহের গুণগান। মানুষ মুখে বলে, “সিংহের মতো সাহসী হও”, “সিংহের মতো নেতৃত্ব দাও।” কিন্তু বাস্তব জীবনে একটু খেয়াল করলে দেখা যায়, মানুষ আসলে সিংহ নয়, গাধাকেই বেশি পছন্দ করে।
গাধা শক্তিশালী নয়, বীরও নয়। কিন্তু সে নির্ভরযোগ্য। চুপচাপ বোঝা বহন করে, প্রশ্ন করে না, প্রতিবাদ করে না। অফিস, সমাজ কিংবা রাষ্ট্র—সব জায়গায় এমন মানুষই বেশি দরকার, যারা কথা কম বলবে, কাজ বেশি করবে; অন্যায় দেখেও চুপ থাকবে; নির্দেশ মানবে নিঃশর্তভাবে। সিংহ প্রশ্ন করে, নিজের এলাকা নিজে ঠিক করে, অন্যায়ের কাছে মাথা নত করে না। এই কারণেই সিংহ বিপজ্জনক।
ব্যবহারিক জীবনে নেতৃত্ব নয়, আনুগত্য বেশি মূল্য পায়। সাহস নয়, সহনশীলতা বেশি নিরাপদ। যে মানুষ বেশি প্রশ্ন করে, ভিন্নমত পোষণ করে, সে দ্রুতই “সমস্যা” হয়ে ওঠে। আর যে গাধার মতো সব মেনে নিয়ে টিকে থাকে, সে হয়ে ওঠে “ভালো কর্মী”, “ভদ্র মানুষ”, “বিশ্বস্ত লোক”।
সমাজের এই দ্বিচারিতা খুব স্পষ্ট। মঞ্চে আমরা সিংহের গল্প শুনি, কিন্তু মাঠে গাধাকে দিয়ে কাজ করাই। কারণ সিংহ নিয়ন্ত্রণ মানে না, আর গাধা নিয়ন্ত্রণের প্রতীক। ক্ষমতাবানদের কাছে তাই গাধাই বেশি দরকার, যে বোঝা বইবে, কিন্তু প্রশ্ন তুলবে না।
এটা শুধু ব্যক্তিগত জীবনের চিত্র নয়; রাষ্ট্র, রাজনীতি, কর্পোরেট দুনিয়া, সবখানেই একই বাস্তবতা। আদর্শে আমরা সাহসী মানুষ চাই, কিন্তু বাস্তবে আমরা চাই বাধ্য মানুষ। ফলে সমাজে সিংহ কমে যায়, গাধার সংখ্যা বাড়ে।
তবে প্রশ্ন থেকেই যায়, এই সমাজ কি সত্যিই এগিয়ে যায়? গাধা দিয়ে চলা যায়, কিন্তু দিক বদলানো যায় না। ইতিহাস বদলায় সিংহের মতো মানুষরাই, যারা প্রশ্ন করে, ঝুঁকি নেয়, একা দাঁড়াতে সাহস পায়। তাই মুখে সিংহের প্রশংসা নয়, কাজে সিংহকে গ্রহণ করার মানসিকতাই সমাজের প্রকৃত অগ্রগতির শর্ত।
শেষ পর্যন্ত সিদ্ধান্তটা আমাদেরই। আমরা কি শুধু বোঝা বহন করা গাধা হয়ে থাকব, নাকি ঝুঁকি নিয়েও সিংহ হওয়ার চেষ্টা করব?
বাংলা নিউজ মিডিয়া কর্তৃক সম্পাদিত ও প্রকাশিত
সারাদেশে প্রতিনিধি নিয়োগ চলছে WhatsApp & imo 01886833283
সাথী সোহেল জনকল্যাণ ফাউন্ডেশন (আর্তমানবতার সেবায়) বিকাশ/নগদঃ ০১৩০২৪৪৭৩৭৩