নিজস্ব প্রতিবেদক, রাজশাহী:
রাজশাহীর পবা উপজেলার রামচন্দ্রপুর ইউনিয়ন ভূমি অফিসে চলছে দুর্নীতি, অনিয়ম আর দালালদের দৌরাত্ম্য। এই অফিসের ইউনিয়ন ভূমি কর্মকর্তা (নায়েব) কামাল হোসেনের বিরুদ্ধে ঘুষ গ্রহণ, দালালদের মাধ্যমে সাধারণ মানুষকে হয়রানি ও অবৈধ সম্পদ অর্জনের গুরুতর অভিযোগ উঠেছে।
স্থানীয়দের অভিযোগ, কামাল হোসেনের নেতৃত্বে একটি শক্তিশালী দালাল সিন্ডিকেট দীর্ঘদিন ধরে অফিসের প্রতিটি কাজে টাকার খেলা চালিয়ে যাচ্ছে। নামজারি, খাজনা আদায়, জমির কাগজ যাচাই কিংবা নথি সংশোধন—কোনো কাজই ঘুষ ছাড়া হয় না।
ভুক্তভোগীরা জানান, সরকারি নির্ধারিত ফি পরিশোধ করার পরও কামাল হোসেনের দালালরা অতিরিক্ত টাকা দাবি করে। কেউ ঘুষ দিতে অস্বীকার করলে তার ফাইল মাসের পর মাস আটকে রাখা হয় বা ইচ্ছাকৃতভাবে জটিলতা তৈরি করা হয়। এতে সাধারণ মানুষ পড়ছেন চরম হয়রানি ও ভোগান্তিতে।
সুশীল সমাজের প্রতিনিধিরা বলছেন, রামচন্দ্রপুর ভূমি অফিসে চলমান এই দুর্নীতি প্রশাসনিক শৃঙ্খলার ওপর সরাসরি আঘাত হেনেছে। এতে শুধু প্রশাসনের ভাবমূর্তি ক্ষুণ্ণ হচ্ছে না, বরং সাধারণ মানুষ ন্যায়বিচার থেকে বঞ্চিত হচ্ছেন। তারা কামাল হোসেনের দ্রুত অপসারণ ও দৃষ্টান্তমূলক শাস্তির দাবি জানিয়েছেন।
এদিকে, তার বিরুদ্ধে আনীত অভিযোগের ভিত্তিতে স্থানীয়রা ভূমি মন্ত্রণালয় ও দুর্নীতি দমন কমিশনে (দুদক) লিখিত অভিযোগ দায়েরের প্রক্রিয়া শুরু করেছেন। তবে এখন পর্যন্ত কোনো প্রশাসনিক ব্যবস্থা নেওয়া হয়নি।
এর মধ্যেই কামাল হোসেনের প্রকাশ্যে ঘুষ নেওয়ার একটি ভিডিও সামাজিক যোগাযোগমাধ্যমে ভাইরাল হয়। ভিডিওটি প্রকাশের পরও তিনি বহাল তবিয়তে দায়িত্ব পালন করছেন—যা স্থানীয় পর্যায়ে তীব্র ক্ষোভ ও সমালোচনার জন্ম দিয়েছে।
ভিডিও নিয়ে জানতে চাইলে কামাল হোসেন সাংবাদিকদের সঙ্গে ক্ষুব্ধ আচরণ করেন। তিনি বলেন, “ভিডিওর বিষয়টা এক-দু মাস আগেই অফিসিয়ালি ফয়সালা হয়ে গেছে। ভিডিও তো ডিলিট হয়ে যাওয়ার কথা। আপনাকে আবার কে ভিডিও দিলো? আপনি ফোন রাখেন।” এরপর তিনি ফোন কেটে দেন।
অন্যদিকে, পবা উপজেলা ভূমি অফিসের অনিয়ম কেবল এখানেই সীমাবদ্ধ নয়। ৮০ লাখ টাকার রাজস্ব আত্মসাতের অভিযোগে ওই অফিসের সাবেক নাজির কাম ক্যাশিয়ার কাজেম আলীর বিরুদ্ধে মামলা করেছে দুর্নীতি দমন কমিশন (দুদক)।
দুদকের তদন্তে জানা যায়, ২০১০ থেকে ২০১৭ সাল পর্যন্ত দায়িত্বে থাকাকালীন সময়ে কাজেম আলী ডিসিআরের মাধ্যমে আদায়কৃত রাজস্বের অর্থ ট্রেজারি চালানে টেম্পারিং ও অঙ্ক বিকৃত করে প্রায় ৭৯ লাখ ২৬ হাজার ২৮১ টাকা আত্মসাৎ করেন। বিষয়টি প্রথমে নিরীক্ষায় ধরা পড়ে এবং পরবর্তীতে দুদকের অনুসন্ধানেও প্রমাণ মেলে।
২০২৩ সালের জুলাই মাসে দুদকের রাজশাহী সমন্বিত জেলা কার্যালয়ের সহকারী পরিচালক আমির হোসাইন বাদী হয়ে তার বিরুদ্ধে মামলা দায়ের করেন।
সব মিলিয়ে পবা উপজেলার ভূমি অফিসের একের পর এক দুর্নীতি ও অনিয়মের ঘটনা প্রশাসনের স্বচ্ছতা ও দায়বদ্ধতা নিয়ে বড় প্রশ্ন তুলে দিয়েছে। স্থানীয়রা বলছেন, “ঘুষের ভিডিও ভাইরাল হওয়ার পরও যদি ব্যবস্থা না নেওয়া হয়, তাহলে সাধারণ মানুষ ন্যায়বিচারের আশাই বা কোথায় পাবে?”
বাংলা নিউজ মিডিয়া কর্তৃক সম্পাদিত ও প্রকাশিত
সারাদেশে প্রতিনিধি নিয়োগ চলছে WhatsApp & imo 01886833283
সাথী সোহেল জনকল্যাণ ফাউন্ডেশন (আর্তমানবতার সেবায়) বিকাশ/নগদঃ ০১৩০২৪৪৭৩৭৩